বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে সরকার 'নেট মিটারিং' (Net Metering) নির্দেশিকা চালু করেছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে গ্রাহক তার ছাদে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করার পর অতিরিক্ত অংশ জাতীয় গ্রিডে পাঠিয়ে দিতে পারেন। মাস শেষে এই বাড়তি বিদ্যুতের দাম তার মূল বিদ্যুৎ বিল থেকে সমন্বয় করা হয়, যা পরোক্ষভাবে একটি আয়ের উৎস।
নেট মিটারিং আসলে কী?
সহজ কথায়, নেট মিটারিং হলো একটি বিশেষ গণনা পদ্ধতি। আপনার সোলার প্যানেল থেকে দিনের বেলা যে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, তা যদি আপনার ব্যবহারের চেয়ে বেশি হয়, তবে সেই বাড়তি বিদ্যুৎ একটি 'বাই-ডিরেকশনাল' বা দ্বিমুখী মিটারের মাধ্যমে সরকারি বিদ্যুৎ লাইনে (গ্রিডে) চলে যাবে। মাস শেষে আপনি গ্রিড থেকে কতটুকু বিদ্যুৎ নিয়েছেন এবং গ্রিডে কতটুকু দিয়েছেন, তার পার্থক্য হিসাব করে বিল করা হবে।
✓ যদি আপনি গ্রিডে বেশি বিদ্যুৎ দিয়ে থাকেন, তবে সেই ইউনিটগুলো আপনার অ্যাকাউন্টে জমা থাকবে যা পরবর্তী মাসের বিলের সাথে সমন্বয় করা হবে।
✓ বছরের শেষে যদি আপনার জমা ইউনিটের পরিমাণ বেশি থাকে, তবে বিদ্যুৎ অফিস থেকে সেই বিদ্যুতের দাম নগদ পাওয়ার সুযোগও রয়েছে।
স্থাপনের খরচ ও বিনিয়োগ
সোলার সিস্টেমের খরচ নির্ভর করে আপনি কত কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সিস্টেম বসাতে চান তার ওপর।
✓ সাধারণত ১ কিলোওয়াট সিস্টেমের জন্য প্যানেল, ইনভার্টার এবং স্ট্রাকচারসহ প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকা খরচ হতে পারে।
✓ তবে বড় পরিসরে (যেমন ৫ বা ১০ কিলোওয়াট) করলে প্রতি কিলোওয়াট খরচ অনেকটা কমে আসে।
✓ এই সিস্টেমে কোনো ব্যাটারির প্রয়োজন হয় না (যদি শুধু নেট মিটারিং লক্ষ্য হয়), ফলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ খুবই কম।
আয় ও সাশ্রয়ের হিসাব
নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে একজন গ্রাহক মূলত দুইভাবে লাভবান হন:
সরাসরি সাশ্রয় দিনের বেলা সোলার থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় মেইন গ্রিডের বিদ্যুৎ খরচ হয় না।
ইউনিট বিক্রয় ছুটির দিনে বা অফিস চলাকালীন যখন বাড়িতে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়, তখন সব বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি হয়।
বিনিয়োগ ফেরত সাধারণত ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে সিস্টেমের পুরো খরচ সাশ্রয় ও আয়ের মাধ্যমে উঠে আসে।
কীভাবে শুরু করবেন?
✓ আপনার এলাকার সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিস (ডেসকো, ডিপিডিসি, নেসকো বা পল্লী বিদ্যুৎ) বরাবর নেট মিটারিংয়ের জন্য আবেদন করতে হবে।
✓ আবেদনের পর টেকনিক্যাল টিম আপনার সোলার সিস্টেমের মান যাচাই করে একটি 'বাই-ডিরেকশনাল' মিটার স্থাপন করে দেবে।
✓ বর্তমানে বাণিজ্যিক ও শিল্প গ্রাহকদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক করা হলেও আবাসিক গ্রাহকদের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ।
সতর্কতা: নেট মিটারিং সুবিধার জন্য অবশ্যই ভালো মানের 'অন-গ্রিড ইনভার্টার' ব্যবহার করতে হয়, যাতে গ্রিডের সাথে বিদ্যুতের ফ্রিকোয়েন্সি ঠিক থাকে।
সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের বিদ্যুৎ বিল শূন্যে নামিয়ে আনা এবং দেশের জ্বালানি সংকটে অবদান রাখার এটিই সেরা সময়।
সংক্ষেপে প্রয়োজনীয় সংবাদ, তথ্য, শিক্ষা ও সেবার সমন্বয়ে গঠিত আধুনিক ওয়েব পোর্টাল গ্লোলিংক (Glolink)।