সাজনা খুবই দামী একটি সবজি, লাগালেই অনেক ফলন হয়। বাড়ির পতিত জমিতে লাগয়ে আপনি ধনী হয়ে যেতে পারেন। (ভিডিওতে বিস্তারিত দেখুন)
সাজনা বা সজনে (Drumstick) বর্তমানে কেবল একটি সাধারণ সবজি নয়, বরং এর পুষ্টিগুণ ও বহুমুখী ব্যবহারের কারণে এটি ‘সুপারফুড’ এবং ‘মিরাকল ট্রি’ হিসেবে পরিচিত। বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা এবং চাষাবাদে স্বল্প খরচের কারণে এটি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল।
সাজনা চাষের বিস্তারিত গাইডলাইন নিচে দেওয়া হলো:
১. লাভজনক হওয়ার প্রধান কারণসমূহ
কম খরচ, বেশি লাভ: সজনে গাছে খুব একটা সার বা সেচের প্রয়োজন হয় না। একবার গাছ লাগালে বছরের পর বছর ফলন পাওয়া যায়।
বিদেশের বাজার: বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকায় সজনে পাতার গুঁড়োর (Moringa Powder) ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।
রোগবালাই কম: অন্যান্য সবজির তুলনায় সজনে গাছে রোগ ও পোকার আক্রমণ অত্যন্ত কম।
২. চাষ পদ্ধতি
সাজনা সাধারণত দুইভাবে চাষ করা যায়: ডাল পুঁতে (কাটিং) এবং বীজ থেকে।
উপযুক্ত সময়: কাটিং বা ডাল রোপণের জন্য চৈত্র-বৈশাখ মাস (মার্চ-এপ্রিল) সেরা সময়। তবে বারোমাসি জাতের ক্ষেত্রে বীজের চারা যেকোনো সময় লাগানো যায়।
মাটি: প্রায় সব ধরনের মাটিতেই সাজনা হয়, তবে বেলে দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো। খেয়াল রাখতে হবে যেন জমিতে পানি জমে না থাকে।
রোপণ দূরত্ব: বাণিজ্যিক চাষের জন্য এক গাছ থেকে অন্য গাছের দূরত্ব ৮-১০ ফুট রাখা ভালো।
৩. উন্নত জাত নির্বাচন
সাজনার লাভ মূলত নির্ভর করে জাতের ওপর। বর্তমানে দুই ধরনের জাত জনপ্রিয়: ১. দেশি জাত: বছরে একবার ফলন দেয় (সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাসে)। ২. বারোমাসি জাত (যেমন: ODC-3, PKM-1, PKM-2): এই জাতগুলো রোপণের ৬-৮ মাসের মধ্যেই ফলন দিতে শুরু করে এবং বছরে দুবার বা সারাবছর ফলন পাওয়া যায়।
৪. পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ
সাজনা গাছ খুব একটা খামখেয়ালি নয়, তবে ভালো ফলনের জন্য কিছু যত্ন প্রয়োজন:
ছাঁটাই (Pruning): গাছকে বেশি বড় হতে না দিয়ে ২-৩ ফুট উচ্চতায় থাকাকালীন মাথা কেটে দিতে হয়। এতে গাছ ঝোপালো হয় এবং বেশি ডালপালা মানেই বেশি সাজনা।
সার: গর্ত তৈরির সময় কিছু জৈব সার বা গোবর ব্যবহার করলে গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।
সেচ: খরার সময় হালকা সেচ দিলে ফলন ভালো থাকে।
৫. আয়-ব্যয়ের হিসাব ও বাজারজাতকরণ
ফলন: একটি পূর্ণবয়স্ক বারোমাসি গাছ থেকে বছরে প্রায় ৪০-৫০ কেজি সাজনা পাওয়া সম্ভব।
বাজারদর: মৌসুমের শুরুতে সাজনার দাম প্রতি কেজি ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। গড়ে ৫০ টাকা কেজি ধরলেও একটি গাছ থেকে বছরে কয়েক হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।
পাতার ব্যবসা: কেবল ডাঁটা নয়, সজনে পাতা শুকিয়ে গুঁড়ো করে বিক্রি করা বর্তমানে একটি বড় ব্যবসা। ১ কেজি শুকনো পাতার গুঁড়োর দাম ৮০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
বিশেষ টিপস: আপনি যদি বাণিজ্যিকভাবে শুরু করতে চান, তবে শুধু স্থানীয় বাজারের ওপর নির্ভর না করে সজনে পাতার গুঁড়ো তৈরির ছোট একটি ইউনিট করতে পারেন। এতে আপনার লাভের পরিমাণ তিনগুণ বেড়ে যাবে।
সংক্ষেপে প্রয়োজনীয় সংবাদ, তথ্য, শিক্ষা ও সেবার সমন্বয়ে গঠিত আধুনিক ওয়েব পোর্টাল গ্লোলিংক (Glolink)।