ব্রয়লার মুরগি ক্ষতিকর, তাই বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে 'সোনালি'
বিশেষ প্রতিবেদন, গ্লোলিংক
ব্রয়লার মুরগিকে দ্রুত বৃদ্ধির জন্য ব্রয়লারকে চরম মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো হয়। এই অ্যান্টিবায়োটিক মুরগির মাংসে রয়ে যায়, যা খাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ একটি সমস্যা।
অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাধারণ মানুষের ঝোঁক এখন সোনালি ও উন্নত দেশি জাতের মুরগির দিকে। বাজারের এই পরিবর্তন কেবল ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিচ্ছে না, বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারিদের জন্য খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
কেন সোনালি মুরগিই আগামীর সমাধান?
খামারি ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনালি মুরগি ব্রয়লারের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই এবং নিরাপদ। এর কিছু বিশেষ কারণ হলো:
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা: সোনালি মুরগি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে এবং এদের রোগবালাই কম হয়। ফলে খামারিদের অতিরিক্ত ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না।
স্বাদ ও গুণগত মান: এই মুরগির মাংস দেশি মুরগির মতো শক্ত এবং সুস্বাদু। এতে চর্বির পরিমাণ ব্রয়লারের চেয়ে অনেক কম, যা হৃদরোগীদের জন্য নিরাপদ।
বাজার চাহিদা: সাধারণ মানুষ এখন ব্রয়লারের চেয়ে ৫-১০ টাকা বেশি দিয়ে হলেও সোনালি মুরগি কিনতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন, যা বাজারে এর স্থিতিশীল চাহিদা তৈরি করেছে।
সফল খামারিদের সাফল্যের চাবিকাঠি
সারা দেশের কয়েকশ সফল খামারির অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিরাপদ মাংস উৎপাদনে তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ:
উন্নত শেড ব্যবস্থাপনা: আধুনিক পদ্ধতিতে আলো ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলে মুরগি প্রাকৃতিকভাবেই দ্রুত বাড়ে।
প্রাকৃতিক ফিড: ফিডের সাথে ভুট্টা ও সয়াবিনের মিশ্রণ ব্যবহার করে খরচ কমানোর পাশাপাশি মাংসের পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
সময়মতো টিকাদান: মড়ক থেকে বাঁচতে সরকারি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও প্রয়োগ করা।
অতিরিক্ত জানাঃ
সোনালি মুরগির প্রধান প্রকারভেদ
সোনালি (ক্লাসিক): এটিই সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং পরিচিত জাত। এটি মূলত আরআইআর (Rhode Island Red) মোরগ এবং ফায়োমি (Fayoumi) মুরগির সংকরায়ণে তৈরি। এটি দেখতে অনেকটা দেশি মুরগির মতো এবং মাংস ও ডিম—উভয় উদ্দেশেই পালন করা হয়।
সোনালি সুপার হাইব্রিড: সাধারণ সোনালির চেয়ে এটি দ্রুত বাড়ে। মাংসের উৎপাদন বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে এই বিশেষ স্ট্রেইনটি তৈরি করা হয়েছে। এটি অল্প সময়ে বেশি ওজন দেয়।
সোনালি ডি-৮৮ (D-88): এটি সোনালির একটি উন্নত জাত, যা মূলত মাংসের জন্য চাষ করা হয়। এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং খাদ্য রূপান্তর হার (FCR) বেশ ভালো।
টাইগার সোনালি বা কালার বার্ড: যদিও এটি পুরোপুরি সোনালি জাত নয়, তবে অনেকে একে সোনালির বিকল্প হিসেবে পালন করেন। এর গায়ের রঙ মিশ্র বা বাঘের মতো ডোরাকাটা হয়। এটি সোনালির চেয়েও দ্রুত বর্ধনশীল।
খামারিদের জন্য পরামর্শ
যদি আপনার লক্ষ্য হয় ডিম উৎপাদন, তবে সাধারণ বা ক্লাসিক সোনালি জাতটি বেছে নেওয়া ভালো।
যদি মাংস উৎপাদন করে দ্রুত বাজারজাত করতে চান, তবে সোনালি সুপার বা ডি-৮৮ জাতের বাচ্চা সংগ্রহ করা লাভজনক।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট