গণভোটে ‘হ্যাঁ’ যেহেতু জয়যুক্ত হয়েছে, অটোমেটিক কার্যকার হবে: পানিসম্পদমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক, গ্লোলিংক
লক্ষ্মীপুরে গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সরকারের এক মাসের কার্যক্রম ও আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কাজ জনগণের কাছে দৃশ্যমান।
বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো হলো:
✓ গণভোট: মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নির্বাচনে 'হ্যাঁ' জয়যুক্ত হওয়ায় সংসদীয় বিল উত্থাপনের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু হবে এবং এটি সংবিধানের অংশ হয়ে যাবে।
✓ ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড: তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে 'ফ্যামিলি কার্ড' কার্যক্রম ইতিমধ্যে দৃশ্যমান এবং আগামী মাস থেকেই 'কৃষক কার্ড' চালু হতে যাচ্ছে।
✓ রাজনৈতিক সমন্বয়: তিনি পার্লামেন্টে বিরোধী দলকে সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং খাল খনন কর্মসূচিতে জামায়াতের আমিরের ইতিবাচক সাড়াকে স্বাগত জানান।
✓ উন্নয়ন ধারা: প্রধানমন্ত্রীর নিরলস পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশবাসী দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাবে।
অতিরিক্ত জানাঃ
গণভোটে হ্যা জয়যুক্ত হওয়ার ফলে প্রধান প্রধান যে সংস্কার হলো বাস্তবায়ন হবে
✓ প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য: কোনো ব্যক্তি জীবনে দুই মেয়াদের বেশি (সর্বোচ্চ ১০ বছর) প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী একই সময়ে দলীয় প্রধান ও সরকার প্রধানের পদে থাকতে পারবেন না। এছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি করে নিয়োগ ও অন্যান্য বিষয়ে ভারসাম্য আনা হবে।
✓ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ: বর্তমান এককক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদের পরিবর্তে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ—এই দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। উচ্চকক্ষে ১০০ জন সদস্য ভোটের আনুপাতিক হারে নির্বাচিত হবেন।
✓ ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার: সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন বা বাতিল করা হবে, যাতে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের বিপক্ষে বা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন।
✓ বিচারের স্বাধীনতা ও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল: বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করতে একটি ‘জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিশন’ এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিচারক নিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস পাবে।
✓ নাগরিক পরিচয় ও ভাষা: বাংলাদেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয় হিসেবে ‘বাঙালি’র পরিবর্তে ‘বাংলাদেশি’ প্রতিস্থাপন করা হবে (যাতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ সবাই অন্তর্ভুক্ত হয়)। রাষ্ট্রভাষা বাংলার পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
✓ নতুন মৌলিক অধিকার: নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার অধিকার এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করাকে সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
✓ পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশন: পুলিশকে একটি ‘ফোর্স’ থেকে ‘সার্ভিস’-এ রূপান্তর করা এবং একটি স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠন করা। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনারদের মেয়াদ ৫ বছরের পরিবর্তে ৪ বছর করা এবং এর এখতিয়ার বেসরকারি খাতেও বিস্তৃত করা।
✓ শহীদ ও আহতদের স্বীকৃতি: জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং আহতদের পুনর্বাসনের আইনি বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা।
এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের জন্যই মূলত ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট