ট্রাম্পের ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের: হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষতিপূরণ দাবি তেহরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, গ্লোলিংক
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাবকে 'অবাস্তব' বলে অভিহিত করে তেহরান পাল্টা কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ট্রাম্পের ১৫ দফা ও ইরানের অনড় অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগসহ শান্তি পরিকল্পনার প্রধান বিষয়গুলোতে তেহরান সম্মত হয়েছে। তবে তেহরান এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রস্তাব তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মার্কিন প্রস্তাবের বিপরীতে ইরানের আইনপ্রণেতারা ও ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিজস্ব চুক্তির খসড়া পেশ করেছে।
ইরানের পাল্টা দাবিগুলো হলো:
হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ: সুয়েজ খাল থেকে মিসর যেভাবে শুল্ক আদায় করে, ঠিক একইভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের অধিকার চায় ইরান।
মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার: উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে।
ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা মুক্তি: ইরানের ওপর হওয়া পূর্ববর্তী হামলার ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং সব ধরনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা নিয়ে কোনো আলোচনা করা হবে না।
আঞ্চলিক প্রভাব: বিদেশে ইরানের মিত্র বা ছায়া গোষ্ঠীগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে।
ট্রাম্পের প্রস্তাবে যা ছিল
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও ইসরায়েলি গণমাধ্যম সূত্রে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১৫ দফার মধ্যে প্রধান ১৪টি পয়েন্ট সামনে এসেছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করা।
মার্কিন প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য শর্ত:
বিদ্যমান পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা।
নাতানজ, ইসফাহান ও ফোরদোর মতো প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া।
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ আইএইএ (IAEA)-র কাছে হস্তান্তর এবং পরিদর্শকদের পূর্ণ প্রবেশের অধিকার দেওয়া।
আঞ্চলিক ছায়া গোষ্ঠীগুলোকে (প্রক্সি) অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করা।
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির পাল্লা ও পরিমাণ কমিয়ে কেবল আত্মরক্ষায় সীমাবদ্ধ রাখা।
বিনিময়ে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি:
ইরানের ওপর থেকে সব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন সহায়তা প্রদান।
শর্ত লঙ্ঘনে স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা আরোপের 'স্ন্যাপব্যাক' পদ্ধতি বাতিল করা।
বর্তমান পরিস্থিতি
ইরানের একজন কর্মকর্তা প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের দাবিগুলোকে 'বাস্তববিবর্জিত' বলে মন্তব্য করেছেন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনা না হওয়ায় মধ্যস্থতাকারীদের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের পাল্টা দাবিগুলোকে 'অবাস্তব' বলে নাকচ করে দিয়েছেন, যার ফলে এই সংকট নিরসনে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট