বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত, লক্ষণ ও প্রতিকার
স্বাস্থ্য বিভাগ, গ্লোলিংক
বিশ্বজুড়ে লিভার ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ব্যক্তি জানতেই পারেন না যে তিনি এই ভাইরাস বহন করছেন, যার ফলে একে বলা হয় ‘নিঃশব্দ ঘাতক’।
হেপাটাইটিস বি কতটা ভয়াবহ?
এটি মূলত যকৃৎ বা লিভারের একটি মারাত্মক সংক্রমণ। চিকিৎসকদের মতে, এই ভাইরাসটি এইচআইভি (HIV) ভাইরাসের চেয়েও ১০০ গুণ বেশি সংক্রামক। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি লিভার সিরোসিস এবং পরবর্তীতে লিভার ক্যান্সারের রূপ নিতে পারে, যা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশে এটি খোলা খাবার ও নোংরা পাত্র
বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে রাস্তার ধারের অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবেশকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণায় দেখা গেছে:
✓ চায়ের কাপ ও পানির গ্লাস: রাস্তার ধারের টি-স্টলগুলোতে একই বালতির নোংরা পানিতে বারবার গ্লাস বা চায়ের কাপ ধোয়া হয়। যদি কোনো আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত গ্লাস ঠিকমতো জীবাণুমুক্ত না করে অন্য কেউ ব্যবহার করেন, তবে সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
✓ খোলা খাবার ও ভাজাপোড়া: রাস্তার ধারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি ভাজাপোড়া ও খোলা খাবারে নানা ধরনের জীবাণু থাকে। বিশেষ করে খাবার পরিবেশনকারী ব্যক্তি যদি এই ভাইরাসের বাহক হন এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি না মানেন, তবে সেই খাবার থেকে সুস্থ ব্যক্তিও আক্রান্ত হতে পারেন।
✓ অপরিচ্ছন্ন ড্রাম বা জারের পানি: ফিল্টার ছাড়া বা অপরিচ্ছন্ন পাত্রে সংরক্ষিত পানি পান করার মাধ্যমেও এই ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
✓ অনিরাপদ সিরিঞ্জ ও সেলুন: একই সুঁই ব্যবহার করে ইনজেকশন দেওয়া বা সেলুনে একই ব্লেড/খুর দিয়ে একাধিক ব্যক্তির শেভ করার মাধ্যমে রক্ত থেকে রক্তে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
✓ রক্ত সঞ্চালন: রক্ত স্ক্রিনিং না করে শরীরে গ্রহণ করলে।
✓ জন্মগত: আক্রান্ত মায়ের থেকে শিশুর দেহে।
হেপাটাইটিস বি থেকে বাঁচার উপায়
এই প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
✓ টিকা গ্রহণ: হেপাটাইটিস বি-র টিকা গ্রহণ করা হচ্ছে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। মোট তিনটি ডোজের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
✓ খাবার গ্রহণে সতর্কতা: বাইরের খোলা খাবার বা রাস্তার ধারের দোকানের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পানি পান ও চা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজনে ওয়ান-টাইম কাপ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
✓ ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: অন্যের ব্যবহৃত টুথব্রাশ, রেজার বা নেইল কাটার ভুলেও ব্যবহার করবেন না। সেলুনে শেভ করার সময় নতুন ব্লেড নিশ্চিত করুন।
✓ রক্ত পরীক্ষায় সতর্কতা: শরীরে রক্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই তা অভিজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা পুনরায় পরীক্ষা করে নিন।
✓ সচেতন জীবনযাপন: ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিস (রেজার, ব্রাশ) শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
✓ স্ক্রিনিং: কোনো লক্ষণ ছাড়াই বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা করা উচিত যাতে আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা যায়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: লিভারের কোনো সমস্যা দেখা দিলে কবিরাজি বা অপচিকিৎসা না করে দ্রুত হেপাটোলজিস্ট বা লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট