ইরান যুদ্ধের ব্যয়ভার মধ্যপ্রাচ্যের ওপর চাপাতে চান ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, গ্লোলিংক
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের বিশাল আর্থিক বোঝা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপানোর পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গতকাল সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরব দেশগুলোকে এই যুদ্ধের খরচ বহনে আহ্বান জানানোর বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহী।
যুদ্ধের আকাশছোঁয়া ব্যয় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
মার্কিন কংগ্রেসের এক গোপন শুনানির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনেই খরচ হয়েছিল ১,১৩০ কোটি ডলার। বর্তমানে যুদ্ধের ৩২তম দিনে এই অঙ্ক কয়েক হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
✓ ঐতিহাসিক উদাহরণ: ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় কুয়েতকে মুক্ত করতে জার্মানি, জাপানসহ মিত্র দেশগুলো প্রায় ৫,৪০০ কোটি ডলার (বর্তমান মূল্যে ১৩,৪০০ কোটি ডলার) প্রদান করেছিল।
✓ বর্তমান প্রেক্ষাপট: সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (CSIS) মতে, যুদ্ধের ১২তম দিনেই খরচ ১,৬৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। হোয়াইট হাউস ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত ২০ হাজার কোটি ডলারের সামরিক বাজেট চেয়েছে।
খরচ আদায়ের বিভিন্ন প্রস্তাব
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল এবং ডানপন্থী সমালোচকরা যুদ্ধের খরচ উসুলের বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করছেন:
✓ তেলের মাধ্যমে পরিশোধ: সমালোচক শন হ্যানিটি প্রস্তাব করেছেন যে, ইরানকে তাদের তেলের মাধ্যমে মার্কিন সামরিক অভিযানের পুরো খরচ মেটাতে হবে। ✓ আরব দেশগুলোর অংশগ্রহণ: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইছেন মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোই এই যুদ্ধের আর্থিক দায়ভার গ্রহণ করুক।
জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক প্রভাব
ইরান যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব: আমেরিকায় প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ১ ডলার বেড়ে বর্তমানে ৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
হোয়াইট হাউসের অবস্থান: প্রেস সেক্রেটারি লেভিট জানিয়েছেন, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক। দীর্ঘ মেয়াদে ইরানকে দুর্বল করা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বেশি লাভজনক হবে।
ইরান ও ইসরায়েল পরিস্থিতি
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রভাবে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে:
✓ তারা কোনো উস্কানি ছাড়াই আক্রান্ত হয়েছে।
✓ যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে ইরান তাদের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।
✓ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান।
এখন পর্যন্ত আরব দেশগুলোর শাসকরা এই যুদ্ধের খরচ বহনের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট