রোববার থেকে দেশজুড়ে হামের জরুরি টিকাদান শুরু: ৬ মাস থেকে ১০ বছরের শিশুরা পাবে টিকা

০১ এপ্রিল ২০২৬   06:23 PM(২ দিন আগে)   209 Views
হামের টিকা
স্বাস্থ্য বিভাগ, গ্লোলিংক

সারাদেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় আগামী রোববার থেকে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান (ইমার্জেন্সি ভ্যাকসিনেশন) কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রাথমিকভাবে দেশের যেসব উপজেলায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি, সেখানে এই কার্যক্রম শুরু হবে।



আজ বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই ঘোষণা দেন।



দ্রুত পদক্ষেপ ও মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি



সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাম প্রতিরোধে সরকার সর্বোচ্চ গতিতে কাজ করছে। তিনি বলেন:



সরবরাহ: আগামীকাল বৃহস্পতিবার ও পরশুর মধ্যে আক্রান্ত উপজেলাগুলোতে টিকা ও সিরিঞ্জ পৌঁছে দেওয়া হবে।



ছুটি বাতিল: টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে মাঠপর্যায়ের সকল স্বাস্থ্যকর্মীর ছুটি আগামীকাল থেকে বাতিল করা হয়েছে। তারা স্থানীয় কর্মকর্তাদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন।



চিকিৎসা সরঞ্জাম: শিশুদের শ্বাসকষ্ট ও অক্সিজেনের অভাব রোধে বেসরকারি খাত থেকে দ্রুত ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করে হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ করা হয়েছে।



টিকার পরিধি ও বরাদ্দ



এবারের বিশেষ কর্মসূচির আওতায় টিকার বয়সসীমা বাড়ানো হয়েছে। আগে সাধারণত ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের এই টিকা দেওয়া হতো, তবে এখন ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী সকল শিশু-কিশোর এই টিকা নিতে পারবে।



টিকাদানের আর্থিক ও কারিগরি প্রস্তুতির বিষয়ে মন্ত্রী জানান:



আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্যাভি (Gavi)-র কাছে থাকা ২১.৯ মিলিয়ন টিকার মজুত থেকে টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে।



টিকা কেনার জন্য সরকার ইতোমধ্যে ৬০১ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। পরবর্তীতে কেনা টিকা দিয়ে গ্যাভির মজুত প্রতিস্থাপন করা হবে।"যতটা ভয়াবহভাবে হাম আমাদের আক্রমণ করেছে, আমরা তার চেয়ে দ্রুতগতিতে প্রতিহত করার চেষ্টা করছি। কিছু প্রাণহানি হলেও আমরা পরিস্থিতি প্রপারলি ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি।" — সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী।



সংকটের কারণ ও পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা



স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত একটি অসম্পূর্ণ ক্যাম্পেইন হয়েছিল, যেখানে সবাইকে টিকার আওতায় আনা হয়নি। ২০১৮ সালের পর দেশে কার্যকর কোনো বড় ক্যাম্পেইন না হওয়াকে বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, "এটি গত কয়েক বছরের নীতি-ঘাটতি এবং পূর্ববর্তী সরকারের অদক্ষতা ও বিলম্বিত সিদ্ধান্তের ফলাফল।"



বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ



সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দীন হায়দার। তিনি বলেন, পরিস্থিতির অবনতি হলেও তা এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। সঠিক তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপ এবং মাঠপর্যায়ের সেবা জোরদার করলে সংক্রমণ দ্রুত রোধ করা সম্ভব। তিনি জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

গ্লোলিংক অপ্রয়োজনীয় সংবাদ দিয়ে পাঠকদের সময় অপচয় ও মস্তিষ্ক ভারী করে না, প্রয়োজনীয় সংবাদ ও তথ্য যাচাই করে প্রকাশ করে

আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট

সর্বশেষ সংবাদঃ

সপ্তাহের সর্বাধিক পঠিত