শিশুদের হাম (Measles): লক্ষণ, কারণ ও প্রতিকারের বিস্তারিত গাইড
স্বাস্থ্য বিভাগ, গ্লোলিংক
সম্প্রতি বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সঠিক সময়ে চিকিৎসা বা প্রতিরোধ না করলে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।
১. হাম কী?
হাম হলো ‘মরবিলি ভাইরাস’ (Morbilli Virus) দ্বারা সৃষ্ট একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। এটি প্রধানত শিশুদের আক্রমণ করে, তবে যেকোনো বয়সের মানুষ যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা টিকা নেওয়া নেই, সে এতে আক্রান্ত হতে পারে। এটি শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায়।
২. হাম কেন হয় এবং কীভাবে ছড়ায়?
হাম মূলত ভাইরাসের কারণে হয়। এটি বায়ুবাহিত রোগ:
হাঁচি-কাশি: আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে ভাইরাসটি ছড়ায়।
স্পর্শ: রোগীর নাক বা মুখের লালা লেগে আছে এমন কোনো বস্তু স্পর্শ করলে এবং সেই হাত নিজের মুখে বা চোখে দিলে সংক্রমণ হতে পারে।
অরক্ষিত অবস্থা: যারা শৈশবে হামের টিকা (MR Vaccine) নেয়নি, তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
৩. রোগের লক্ষণসমূহ
সংক্রমণের ১০-১২ দিন পর সাধারণত লক্ষণ দেখা দেয়:
তীব্র জ্বর: শরীর অনেক গরম হয়ে যায়।
কাশি ও সর্দি: সাধারণ ঠান্ডার মতো নাক দিয়ে জল পড়ে এবং অনবরত কাশি হয়।
চোখ লাল হওয়া: চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং আলোতে অস্বস্তি বোধ করা।
শরীরে র্যাশ: জ্বরের ২-৪ দিন পর মুখে ও ঘাড়ে ছোট ছোট লালচে দানা দেখা দেয় এবং দ্রুত তা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
কোপ্লিক স্পট: মুখের ভেতরে গালের উল্টো দিকে ছোট সাদাটে দাগ দেখা যেতে পারে।
৪. সুরক্ষা বা প্রতিরোধের উপায়
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো সচেতনতা ও টিকাদান:
টিকাদান (Vaccination): সরকারি কর্মসূচির আওতায় ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস পূর্ণ হলে দ্বিতীয় ডোজ এমআর (MR) টিকা নিতে হবে। এটি ৯৭% পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়।
আলাদা রাখা: আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে অন্তত ৭-১০ দিন আলাদা রাখতে হবে যাতে রোগটি না ছড়ায়।
পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত হাত ধোয়া এবং রোগীর ব্যবহৃত কাপড় ও বাসনপত্র আলাদাভাবে পরিষ্কার করা।
৫. চিকিৎসা ও করণীয়
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ নেই, তবে সঠিক যত্নে এটি দ্রুত সেরে যায়:
বিশ্রাম: রোগীকে পর্যাপ্ত পূর্ণ বিশ্রাম দিতে হবে।
ভিটামিন-এ (Vitamin A): হাম হলে শিশুর শরীরে ভিটামিন-এ এর ঘাটতি দেখা দেয়, যা থেকে অন্ধত্ব হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শে উচ্চমাত্রার ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে।
তরল খাবার: জ্বর ও কাশির কারণে শরীরে পানির অভাব হতে পারে, তাই প্রচুর পানি, স্যুপ ও ফলের রস খাওয়াতে হবে।
জ্বর নিয়ন্ত্রণ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
সতর্কতা: যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়, কান দিয়ে পুঁজ পড়ে বা প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে যায়, তবে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: হাম কোনো অভিশাপ বা সাধারণ চর্মরোগ নয়। অপচিকিৎসা বা কবিরাজি ঝাড়ফুঁক এড়িয়ে সরাসরি রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট