ট্রাফিক জ্যামে বসে ও রাস্তা বন্ধ করে দলীয় সমাবেশ না করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আসলে কি বার্তা দিচ্ছেন?
নিজস্ব প্রতিবেদক, গ্লোলিংক
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো গতকাল (২৮ মার্চ, ২০২৬) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এক ব্যতিক্রমী ও কঠোর নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন যে, সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ রুদ্ধ করে কোনো দলীয় কর্মসূচি বা সভা-সমাবেশ করা যাবে না। তিনি বলেন, "রাস্তা বন্ধ করে কোনো দলীয় প্রোগ্রাম করা যাবে না। রাস্তা বন্ধ করে প্রোগ্রাম করলে সেখানে আমি আসবো না।
ধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষকে রাস্তায় আটকে থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি চান আধুনিক ও গতিশীল এক বাংলাদেশ, যেখানে রাজনীতির জন্য মানুষের ভোগান্তি হবে না।
জনসভা বা বড় ধরনের জমায়েতের জন্য নির্দিষ্ট মাঠ বা খোলা জায়গা ব্যবহারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জনবিচ্ছিন্ন বা মানুষকে কষ্ট দিয়ে কোনো রাজনীতি সফল হতে পারে না।
জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার সরকার বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভিন্ন প্রসঙ্গঃ
অতীতে দেখা গেছে, সরকার প্রধান বা ভিভিআইপিদের চলাচলের সময় দীর্ঘক্ষণ রাস্তা বন্ধ রাখা হতো। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে রোগী ও চাকরিজীবীরা চরম ভোগান্তিতে পড়তেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রথা ভেঙে সাধারণ মানুষের মতো ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলাচল করছেন।
ইউরোপের দেশগুলোতে (যেমন: নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক বা সুইডেন) দেখা যায় প্রধানমন্ত্রী বা মন্ত্রীরা সাইকেলে করে অথবা সাধারণ ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে দপ্তরে যাচ্ছেন। তারা নিজেদের জনগণের ঊর্ধ্বে মনে করেন না। সেখানে রাজনৈতিক সমাবেশের জন্য নির্দিষ্ট স্থান (যেমন: লন্ডনের হাইড পার্ক) বরাদ্দ থাকে। রাস্তা দখল করে জনসভা করার সংস্কৃতি সেখানে নেই বললেই চলে।
বাংলাদেশে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তেমন একটি নজির স্থাপন করার চেষ্টা করছেন। এটি কতটুকু সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে। কারণ, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা দীর্ঘ দিন ধরে একটি নির্দিষ্ট ধারায় চলতে চলতে মনস্তাত্ত্বিকভাবে তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এই অভ্যস্ততা ও সংস্কৃতি পরিবর্তন হতে হয়তো কিছুটা সময় লাগবে এবং তা ধীরে ধীরেই ঘটবে।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট