পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত সংঘাত: ৩০ তালেবান সদস্য নিহতের দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, গ্লোলিংক
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তালেবান সরকারের বাহিনীর কথিত ‘উসকানিমূলক’ হামলার জবাবে পাল্টা অভিযান চালিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, এ অভিযানে অন্তত ৩০ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত হয়েছেন।
সূত্র জানায়, হামলার পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’ শুরু করে। তালেবান বাহিনী কোয়াডকপ্টার দিয়ে পাকিস্তানি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার চেষ্টা চালালেও তা প্রতিহত করা হয় এবং সব ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, হালকা ও ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে তালেবান অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত জেনে নিনঃ
দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান ও আফগানিস্তান—ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে দুই দেশের মধ্যে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য।
পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অধিকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটির স্থায়ী সেনাবাহিনী বৃহৎ ও সুসংগঠিত। বিমান বাহিনীর বহরে আধুনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে এবং নৌবাহিনীতেও সাবমেরিন সক্ষমতা আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাকিস্তান একটি পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র এবং তাদের নিজস্ব ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সামরিক শক্তি সূচকে দেশটি তুলনামূলকভাবে উঁচু অবস্থানে রয়েছে।
অন্যদিকে আফগানিস্তানে ২০২১ সালে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর বর্তমান শাসনব্যবস্থা নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ন্ত্রণ করছে। দেশটির সামরিক সক্ষমতা মূলত স্থলভিত্তিক বাহিনী ও হালকা অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহারের পর কিছু সামরিক সরঞ্জাম তাদের নিয়ন্ত্রণে এলেও আধুনিক বিমান ও ভারী যুদ্ধ সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সক্ষমতা সীমিত। আফগানিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র নেই এবং তাদের প্রতিরক্ষা কাঠামো এখনো পুনর্গঠনের পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামগ্রিক সামরিক শক্তি, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর বিচারে পাকিস্তান স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকলেও, আফগানিস্তানের ভূপ্রকৃতি ও দীর্ঘ গেরিলা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তাদের কৌশলগতভাবে একটি ভিন্ন ধরনের সক্ষমতা প্রদান করে।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট