ইরানের হামলায় কাতারের গ্যাসক্ষেত্র পিছিয়ে গেল ৫ বছর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, গ্লোলিংক
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিস্থিতি চরম সংকটের মুখে পড়েছে। ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার জবাবে কাতারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এতে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকেন্দ্র কাতারের রাস লাফান কমপ্লেক্সের ১৭ শতাংশ রপ্তানি সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে ৩ থেকে ৫ বছর সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামলার প্রেক্ষাপট ও ক্ষয়ক্ষতি
গত বুধবার ভোরে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র ইরানের সাউথ পার্স-এর একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এর প্রতিশোধ নিতে ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা শুরু করে।
কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি-র সিইও সাদ আল-কাবি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই হামলাকে ‘অকল্পনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন: “পবিত্র রমজান মাসে আমাদেরই এক মুসলিম ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের কাছ থেকে এমন আক্রমণ হবে, তা স্বপ্নেও ভাবিনি।”
ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাতারের এই স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে:
পাকিস্তান: তাদের মোট এলএনজি আমদানির ৯৯ শতাংশই আসে কাতার থেকে।
বাংলাদেশ: এলএনজি আমদানির ৭০ শতাংশের জন্য কাতারের ওপর নির্ভরশীল।
ভারত: মোট এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি সংগ্রহ করে কাতার থেকে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নিজস্ব এলএনজি মজুত অত্যন্ত সীমিত, যা দিয়ে বড়জোর এক থেকে দুই সপ্তাহ চলা সম্ভব। ফলে দীর্ঘমেয়াদী সরবরাহ বিঘ্নিত হলে দেশ দুটির অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
অবরুদ্ধ ‘লিব্রেথা’ ও হরমুজ প্রণালি
বাংলাদেশের চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল ৬২ হাজার টন এলএনজি বহনকারী ট্যাংকার ‘লিব্রেথা’। কিন্তু ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় জাহাজটি বর্তমানে পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। ফলে আমদানিকারক দেশগুলোর দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
পূর্ব এশিয়ায় প্রভাব
শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, সংকটে পড়েছে তাইওয়ানও। দেশটি তাদের এলএনজি চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ কাতার থেকে আমদানি করে। বর্তমানে তাদের হাতে মাত্র ১১ দিনের মজুত রয়েছে। তবে তাইপে সরকার জানিয়েছে, তারা মে মাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে।
আপনার বয়স কত দেখুন | আজকের সোনা রূপার দর | ডলার রেট